শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন
রবিন চৌধুরী রাসেল- রংপুর জেলা প্রতিনিধি.
রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের কয়েরমারি এলাকায় আপন বড় বোনের কাছ থেকে বৈধভাবে জমি ক্রয় করেও চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শাহজাহান মিয়া (৬০) নামের এক বৃদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি নিয়ে হঠাৎ বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় তিনি এখন কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর মিঠাপুকুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ১৫২৩৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তিনি তার বড় বোন খোদেজা বেগম এর কাছ থেকে ৪৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের সময় সনাক্তকারী সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খোদেজা বেগমের সন্তান আলকাছ মিয়া।
জমি ক্রয়ের পর থেকেই তিনি নিয়মিতভাবে জমিটি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখলে ছিল তার। কিন্তু খোদেজা বেগম মৃত্যুবরণ করার পর হঠাৎ তার সন্তানদের পক্ষ থেকে জমি দখলের চেষ্টা শুরু হয়। ইতোমধ্যে জমি খারিজ সম্পন্ন হলেও সেই খারিজ বাতিলের দাবিতে আবেদন করেছে খোদেজা বেগমের সন্তানরা।
অভিযোগ করে শাহজাহান মিয়া বলেন, কষ্টার্জিত অর্থে ৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা দিয়ে জমিটি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন তিনি এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সব প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছেন। বহু বছর ধরে এই জমিই তার একমাত্র ভরসা। কিন্তু এখন জোরপূর্বক উচ্ছেদের আশঙ্কায় তিনি ভীত ও দিশেহারা। প্রতিনিয়ত চাপ ও দখলচেষ্টার মুখে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও জানান তিনি। প্রশাসনের কাছে তিনি ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে দলিলের ১ নম্বর সাক্ষী জাহাঙ্গীর আলম জানান, রেজিস্ট্রির সময় তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন এবং টাকার বিনিময়ে জমি বিক্রি হয়েছে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তার মতে, বর্তমানে যারা জমি দখলের চেষ্টা করছে তারা আইনবিরোধী কাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিজের আপন বোনের কাছ থেকে বৈধভাবে জমি কিনেও আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এই বৃদ্ধ। জমিটি হারানোর আশঙ্কায় দিনরাত আতঙ্কে থাকছেন তিনি। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। অসহায় এই বৃদ্ধ এখন একটাই দাবি; ন্যায্য অধিকার রক্ষা করে তাকে শান্তিতে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া হোক।